রাজশাহীতে দিনের অর্ধেক সময় থাকছে না বিদ্যুৎ। - ✔

রাজশাহীতে দিনের অর্ধেক সময় থাকছে না বিদ্যুৎ।

0

রাজশাহীতে পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে নেসকোর আওতাভুক্ত এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম লোডশেডিং হচ্ছে। সংস্থাটি দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে

বিদ্যুত সাশ্রয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ে লোডশেডিংয়ের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এই নির্দেশনার পরে রাজশাহীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সময়সীমা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেই সময়সীমা মানা হচ্ছে না এই মহানগরীটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে রাজশাহী পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। তবে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) আওতাভুক্ত এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম লোডশেডিং হচ্ছে। সংস্থাটি দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে।

নেসকো সূত্র বলছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তাদের চাহিদা ছিল ৪৭৮ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিলো ৩৯১ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৮৭ মেগাওয়াট। ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে নেসকোর রাজশাহীর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ জানান, “বৃষ্টি না হলে হয়তো এই অবস্থার উন্নতি হবে না। বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমলে এসির ব্যবহার কমবে। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কমবে।”

পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, দুর্গাপুর, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না।

চারঘাট উপজেলার ডাকরা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল বাবু জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে। দুই ঘণ্টা পরে বিদ্যুৎ এসে ১৫ মিনিট থেকে আবার চলে যাচ্ছে। আবার দুই ঘণ্টা পরে এসে একটু থাকছে।

ADVERTISEMENT

dt-ad
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরের মিলিক বাঘা গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজ অধ্যক্ষ বজলুর রহমান জানান, আবারও ঈদের আগের মতোই অসহনীয় লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. একরামুল হক জানান, চাহিদার থেকে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসন রাত ৮টার পর দোকান, শপিং মল, মার্কেট ও কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কঠোরভাবে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহী জেলায় সকল বিপণীবিতান, শপিংমল, বিনোদন কেন্দ্র, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ১৯ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে বন্ধ রাখা হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পাশাপাশি সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে হবে। শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে নামানো যাবে না। বিভিন্ন জায়গায় বিয়ে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে আলোকসজ্জা হয়- এগুলো করা যাবে না।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, রাজশাহী ডিসি বাংলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে ২৫টি পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ডিসি বাংলো, কালেক্টরেট মাঠসহ সকল উপজেলা প্রশাসনে রাত আটটার পর বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।